বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইরানে আবারও শুরু হয়েছে জেন-জি’র আন্দোলন

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর আলোচনার মাঝেই আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে তেহরান। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে ‘জেন-জি’ আন্দোলন, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরানে আবারও শুরু হয়েছে জেন-জি’র আন্দোলন

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর আলোচনার মাঝেই আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে তেহরান। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে ‘জেন-জি’ আন্দোলন, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজধানী তেহরান-এ রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করেছেন সাধারণ মানুষ। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতদের স্মরণ এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শনিবার প্রথমে কর্মসূচি শুরু করে সরকারবিরোধী তরুণরা। এর পাল্টা হিসেবে ক্ষমতাসীনদের সমর্থক তরুণ-তরুণীরাও সমাবেশ ও মিছিল আয়োজন করে।

ইরানের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানায়, তেহরানের অন্তত তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা সাবেক শাহ মুহম্মদ রেজা শাহ পাহালভি-এর আমলের পতাকা হাতে মিছিল করছেন। মিছিলে উচ্চারিত হচ্ছে তীব্র সরকারবিরোধী স্লোগান; এমনকি কেউ কেউ ইরানে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিও তুলছেন।

একাধিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে চরম সংকটে। দেশটির মুদ্রা ইরানি রিয়াল এখন বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ব্যবসায়ী ও দোকানমালিকেরা আন্দোলন শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তা সরকারবিরোধী বৃহৎ বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানান এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। তবে পরে তিনি আন্দোলন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দেন তেহরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে।

উভয় দেশের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ৬ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু আলোচনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। সরকারি হিসাবে, পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)-এর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, বিভিন্ন ইরানি সূত্রের দাবি—ডিসেম্বর-জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার।

সূত্র: এএফপি