মধ্যপ্রাচ্যে চার সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ওপর সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে রিয়াদ সরাসরি অংশ নেবে কি না, সেই বিষয়টিও দেশটির নীতি নির্ধারকরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।
শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক সৌদি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি। ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে একাধিক টেলিফোন আলাপে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের কট্টরপন্থী সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে হামলা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। যুবরাজের মতে, বর্তমান মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে নতুন করে সাজানোর একটি 'ঐতিহাসিক সুযোগ' তৈরি করে দিয়েছে।
সৌদি আরবের গোয়েন্দা সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, রিয়াদ কেবল এই অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই নয়, বরং এর তীব্রতা আরও বৃদ্ধির দাবি তুলেছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং বড় ধরণের নিরাপত্তা ঝুঁকি। তার বিশ্বাস, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারলেই কেবল এই অঞ্চলের স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব এই যুদ্ধে সরাসরি যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা চালাচ্ছে। যদি রিয়াদ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এক নতুন এবং আরও ভয়াবহ মাত্রা ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের এই ঘনিষ্ঠ সামরিক সমন্বয় তেহরানের জন্য বড় ধরণের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।