ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশের আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থায় ৯ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৩৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার এক দিনেই ৩৩টি নির্ধারিত ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। বাতিল হওয়া এসব ফ্লাইটের তালিকায় রয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৬টি এবং গালফ এয়ারের ২টি ফ্লাইট। এ ছাড়া কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস এয়ারলাইন্স, জাজিরা এয়ারওয়েজ, ফ্লাই দুবাই এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স প্রত্যেকে ৪টি করে ফ্লাইট বাতিল করেছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সেরও ৩টি ফ্লাইট এই তালিকায় রয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছে যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশপথ ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাবে ঢাকা থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
বেবিচকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনে ধারাবাহিকভাবে ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ মার্চ সর্বোচ্চ ৪০টি এবং ২ মার্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এ ছাড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি এবং ৭ ও ৮ মার্চ উভয় দিনে ২৮টি করে ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ধারণ করার পাশাপাশি বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।