বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ চায় না ফ্রান্স

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও দেশটিতে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে জড়ানোর পরিকল্পনা নেই ফ্রান্সের। ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালিস রুফো স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরানে সামরিক হস্তক্ষেপ প্যারিসের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। রোববার দেশটির বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ চায় না ফ্রান্স
ছবিঃ সংগৃহীত


ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও দেশটিতে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে জড়ানোর পরিকল্পনা নেই ফ্রান্সের। ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালিস রুফো স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরানে সামরিক হস্তক্ষেপ প্যারিসের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। রোববার দেশটির বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফ্রান্সের একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকালে অ্যালিস রুফো বলেন, ইরানি জনগণের প্রতি সব ধরনের নৈতিক সমর্থন বজায় রাখা উচিত হলেও সেখানে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানো ফ্রান্সের কাম্য নয়। তিনি মনে করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তির পথ বেছে নেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ইরানের সাধারণ মানুষের। বাইরের কোনো দেশ থেকে তাদের ওপর নেতা চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন হবে না বরং ইরানিরাই নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

দেশটিতে দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকার কারণে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা এবং সংঘটিত অপরাধগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন রুফো। গত ৮ জানুয়ারি থেকে ডিজিটাল সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দেশটির কয়েক কোটি মানুষ বৈশ্বিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সুযোগ নিয়ে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী ভয়াবহ দমনপীড়ন চালিয়েছে, যাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

নরওয়ে ভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস ধারণা করছে, এই আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে থাকতে পারে। যদিও ইরান সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানে ৩ হাজার ১১৭ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে। সরকারি ভাষ্যমতে, নিহতদের বড় অংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিক, যাদের তারা শহীদ হিসেবে গণ্য করছে। অন্যদিকে বাকিদের দাঙ্গাবাজ আখ্যা দিয়ে এই সহিংসতার পেছনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের কড়া হুমকি দিলেও পরবর্তী সময়ে তিনি নিজের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। বিশেষ করে তেহরান কতগুলো পূর্বনির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত থাকার পর তার সুর নরম হতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের শেষে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া সাধারণ মানুষের এই আন্দোলন দ্রুতই কয়েক দশকের পুরনো ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের গণদাবিতে রূপান্তরিত হয়।