বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু'কেও উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে গুলিতে ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ দ্বিতীয় ক্রুকে দুই দিন পর উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র—এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া মার্কিন ক্রু ‘নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন।

ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু'কেও উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র
নিখোঁজ ক্রু'দের উদ্ধারে গত দু'দিন ধরে জোর তল্লাশি অভিযান চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র


ইরানে গুলিতে ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ দ্বিতীয় ক্রুকে দুই দিন পর উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র—এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া মার্কিন ক্রু ‘নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন।

গত শুক্রবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি পাহাড়ি এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ইরানের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই আধুনিক এই মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে।

বিমানটিতে একজন পাইলট ও একজন ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই তাদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। শুরুতে পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দ্বিতীয় ক্রুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাকে উদ্ধারে টানা দুই দিন জোরদার তল্লাশি চালানো হয়।

এদিকে নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে আটক করার চেষ্টা চালায় ইরানও। তাকে জীবিত অবস্থায় ধরিয়ে দিলে প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড বা ৬৬ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয় দেশটির সামরিক বাহিনী। এতে স্থানীয় বাসিন্দারাও অনুসন্ধানে অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে শত শত মানুষকে দক্ষিণ ইরানের পাহাড়ি এলাকায় খোঁজ চালাতে দেখা যায়।

মার্কিন বাহিনী দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান জোরদার করে। বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজ জানায়, অভিযানে দুটি হেলিকপ্টার ও একটি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। তবে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, দক্ষিণ ইরানের ওই এলাকায় ‘কয়েক ডজন বিমান’ মোতায়েন করা হয়েছিল।

দুই দিনের তল্লাশির পর রোববার নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ট্রাম্প লেখেন, "আমরা তাকে পেয়েছি! আমার প্রিয় আমেরিকার ভাইয়েরা, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম দুঃসাহসিক একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে,"

তিনি উদ্ধার হওয়া সেনাকে ‘সম্মানিত একজন কর্নেল’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, বিমান ভূপাতিত হওয়ার সময় তিনি আহত হয়েছিলেন। "তিনি আহত হয়েছেন, কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন,"—পোস্টে যোগ করেন ট্রাম্প।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে তাদের কোনো সদস্য নিহত হননি। যদিও কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনী গোলাগুলির মুখে পড়ে এবং কয়েকজন আহত হন। তবে তারা নিরাপদে ইরানের আকাশসীমা ত্যাগ করতে সক্ষম হন।

ট্রাম্প আরও জানান, নিখোঁজ ক্রুর অবস্থান আগেই শনাক্ত করা হয়েছিল, তবে ‘উদ্ধার অভিযানকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাননি’ বলে সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, "আমরা আমেরিকার কোনো যোদ্ধাকে পেছনে ফেলে রেখে যাব না!"

এদিকে এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা মিক মুলরয় বলেন, "কাউকে পেছনে ফেলে রেখে না আসার একটি নীতি মার্কিন সামরিক বাহিনীর রয়েছে,"

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধাক্কা। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ‘আকাশ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে।

তবে এই ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, সীমিত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ইরান এখনো নিজেদের আকাশসীমা রক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।

এছাড়া নিখোঁজ মার্কিন সেনা ইরানের হাতে আটক হলে তা বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এমন পরিস্থিতি ১৯৭৯ সালের ইরান জিম্মি সংকটের মতো পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারত, যখন মার্কিন কূটনীতিকদের ৪৪৪ দিন আটক রাখা হয়েছিল।