শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরানে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের আগে ‘অদ্ভুত বস্তু’ দেখেন মার্কিন পাইলট

বিগত এপ্রিল মাসে ইরানের আকাশসীমায় আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের শিকার হয়। ওই যুদ্ধবিমানে একজন পাইলট এবং অপর একজন ক্রু দায়িত্বরত ছিলেন। অত্যন্ত বৈরি এবং জটিল পরিস্থিতির মাঝে একটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই দুজনকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল।

ইরানে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের আগে ‘অদ্ভুত বস্তু’ দেখেন মার্কিন পাইলট
ছবি : সংগৃহীত

বিগত এপ্রিল মাসে ইরানের আকাশসীমায় আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের শিকার হয়। ওই যুদ্ধবিমানে একজন পাইলট এবং অপর একজন ক্রু দায়িত্বরত ছিলেন। অত্যন্ত বৈরি এবং জটিল পরিস্থিতির মাঝে একটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই দুজনকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল।

সম্প্রতি ওই বিধ্বস্ত বিমানের চালক চাঞ্চল্যকর এক তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে তিনি আকাশে একটি অত্যন্ত অদ্ভুত দৃশ্য লক্ষ্য করেছিলেন। তাঁর বিবরণ অনুযায়ী, আকাশে ভেসে থাকা সেই বিচিত্র বস্তুটি দেখতে অনেকটা জেলিফিশ বা জেলি মাছের মতো অবয়ব ধারণ করেছিল। মূলত অসংখ্য ক্ষুদ্রাকৃতির ড্রোনের সমন্বিত বিন্যাসের মাধ্যমে আকাশে ওই বিশেষ আকৃতিটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, দুর্ঘটনার শিকার ওই বৈমানিক দেশটির গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে নিজের এই অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার কথা বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন।

ইরানি বাহিনী কীভাবে আকাশে ড্রোনের নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে এমন একটি অবয়ব তৈরি করতে সক্ষম হলো, তা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও এই রহস্যের কোনো কূলকিনারা বা যৌক্তিক ব্যাখ্যা এখনো বের করতে পারেননি তদন্তকারীরা।

সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে আরও মন্তব্য করেছে, যদি আসলেই একসাথে বিপুল সংখ্যক ড্রোন উড়িয়ে এমন কৌশলী প্রদর্শন করা সম্ভব হয়ে থাকে, তবে তা ইরানের ড্রোন প্রযুক্তির এক বিশাল অগ্রগতি এবং একই সাথে তাদের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর জন্য একটি অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ।

সংশ্লিষ্ট পাইলটের কাছ থেকে সরাসরি এই ঘটনার বিবরণ শুনেছেন এমন একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র সিএনএনের কাছে দাবি করেছে, বড় আকৃতির কিছু ড্রোনের নিচের অংশে ছোট ছোট অজস্র ড্রোন এমনভাবে সারিবদ্ধ হয়ে এগোচ্ছিল, যা দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছিল কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন হেঁটে আসছে।

অপর একটি সূত্রের তথ্যমতে, ওই পাইলট তদন্তকারীদের কাছে আকাশজুড়ে যেন ড্রোনের একটি অদৃশ্য মাইনফিল্ড তৈরি করে রাখা হয়েছিল বলে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন।

যদিও অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ঠিক কী কারণে বা কোন সুনির্দিষ্ট হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছিল তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে প্রাথমিক অনুসন্ধান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটি ভূপাতিত করার পেছনে ওই ড্রোনগুলোরই প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।