তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন ইসলামাবাদে কূটনৈতিক পর্যায়ে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এখনো সমাপ্ত হয়নি। লড়াই এখনো চলমান এবং লক্ষ্য অর্জনে আরও অনেক পদক্ষেপ বাকি রয়েছে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তার বিবৃতিতে লেবাননের সাথে শান্তি আলোচনার অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সামরিক সফলতার একটি খতিয়ান তুলে ধরেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান এক ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্রমাগত হামলার ফলে গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা চরম সংকটের মুখে পড়ে।
এই সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে ইরান। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে তেল পরিবহনের এই প্রধান পথটি বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কূটনৈতিক তৎপরতায় গত ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার ইসলামাবাদে ‘ইসলামাবাদ টকস’ শিরোনামে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও জ্যারেড কুশনারের মতো প্রভাবশালীরা উপস্থিত ছিলেন এবং ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে আঞ্চলিক এই আলোচনা চললেও নেতানিয়াহুর সর্বশেষ বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।