খুজেস্তানের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপ-গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতি স্থানীয় গণমাধ্যম আইএসএনএকে জানিয়েছেন, বিগত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন বাহিনী খুজেস্তানের আটটি ভিন্ন অঞ্চলে বোমাবর্ষণ করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩৫ মিনিট থেকে শুরু করে ২টা ২০ মিনিটের মধ্যে দফায় দফায় এই আক্রমণ চালানো হয়।
প্রাদেশিক উপ-গভর্নর জানান, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে আহভাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরাসরি হামলার খবর নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, মূল বিমানবন্দর নিরাপদ রয়েছে, তবে এর কাছাকাছি শহরতলির দুটি এলাকায় আঘাত হেনেছে মার্কিন মিসাইল। এর আগে তিনি অন্য এক বিবৃতিতে জানান, মাহশাহর অঞ্চলের একটি কৃষি সেচ পাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় একজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও চারজন গুরুতর জখম হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই প্রত্যক্ষ সংঘাতের ফলে সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর অবরোধ আরোপের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর। সামনেই নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, তাই বর্তমান পরিস্থিতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য বেশ স্পর্শকাতর ও রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শনিবার বেশ কয়েকটি বিদেশি নৌযান অননুমোদিত রুট ব্যবহার করে পার হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করায় হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। দেশটির বিশেষ সামরিক বাহিনী আইআরজিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা ও তাদের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই নৌপথ বন্ধই থাকবে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, আইআরজিসির হুঁশিয়ারির ঠিক এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় তারা এই সামরিক অভিযান শুরু করে। অন্যদিকে ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, কোনো কন্টেইনার জাহাজে হামলার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের নতুন নতুন সামরিক আস্তানা লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের শীর্ষ নির্বাহী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশেই এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এই সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।