শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরানের তেল কেনায় চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র

তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দ্বিতীয় পর্যায়ের শান্তি আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই ইরানের তেল খাতের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র। শত শত কোটি ডলারের ইরানি জ্বালানি তেল ক্রয়ের অভিযোগে চীনের একটি বড় তেল শোধনাগারসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরানের তেল কেনায় চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : সংগৃহীত

তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দ্বিতীয় পর্যায়ের শান্তি আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই ইরানের তেল খাতের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র। শত শত কোটি ডলারের ইরানি জ্বালানি তেল ক্রয়ের অভিযোগে চীনের একটি বড় তেল শোধনাগারসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট চীনের হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) রিফাইনারিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই শোধনাগারটি ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করছিল। এছাড়া ইরানের তেল পরিবহনে যুক্ত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ৪০টি শিপিং সংস্থা ও জাহাজের ওপরও বিধিনিষেধ জারি করেছে দেশটির অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল।

বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী, ইরানের জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার বর্তমানে মূলত চীনের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৫ সালে ইরান থেকে বিদেশে পাঠানো তেলের ৮০ শতাংশেরই গন্তব্য ছিল চীন। মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে এবং কোনো মার্কিন নাগরিক বা সংস্থা তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বড় রিফাইনারিগুলো চাপে পড়লেও চীনের ছোট আকারের স্বাধীন শোধনাগার বা ‘টিপট রিফাইনারি’গুলো এই নিষেধাজ্ঞার ফলে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারণ বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু বা মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগ নেই বললেই চলে। তবে ইরানের তেল বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করা চীনা ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই পদক্ষেপের বিষয়ে জানান, ইরান সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বৃদ্ধি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান, জাহাজ কিংবা ক্রেতা—যারাই বিশ্ববাজারে ইরানের তেল ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করবে, তাদের কার্যক্রম সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।