ইরান থেকে তুরস্কের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে আঙ্কারা।
সোমবার তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভূপাতিত ওই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ তুরস্কের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলীয় শহর গাজিয়ানটেপে আছড়ে পড়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। তুরস্ক এই ঘটনাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তুরস্ক প্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী হলেও নিজেদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমার সুরক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। আঙ্কারার এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তুরস্কের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটি রুখে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যেকোনো হুমকির মুখে মিত্র দেশগুলোকে রক্ষা করতে ন্যাটো সর্বদা প্রস্তুত। উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবারও একই ধরনের একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছিল তুরস্ক।
তবে তুরস্কের এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই দাবি করেন, ইরানি ভূখণ্ড থেকে তুরস্ক, সাইপ্রাস বা আজারবাইজান অভিমুখে কোনো হামলা চালানো হয়নি। এই ঘটনাকে ইরান ও তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরির জন্য শত্রুপক্ষের সাজানো নাটক বা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে ইঙ্গিত করেন তিনি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলো ছাড়তে নিজেদের নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আদানায় অবস্থিত ন্যাটোর ঘাঁটির নিকটবর্তী মার্কিন কনস্যুলেট থেকেও কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।