শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরানকে বাস্তবতা মেনে আলোচনায় বসতে হবে : মার্কো রুবিও

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নিরসনে ইরানকে সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা স্বীকার করে আলোচনার টেবিলে আসার তাগিদ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

ইরানকে বাস্তবতা মেনে আলোচনায় বসতে হবে : মার্কো রুবিও
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নিরসনে ইরানকে সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা স্বীকার করে আলোচনার টেবিলে আসার তাগিদ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, তেহরান ঠিক কোন বিষয়গুলো নিয়ে দরকষাকষি করতে আগ্রহী, ওয়াশিংটন বর্তমানে তা অনুধাবনের চেষ্টা করছে এবং সেই আলোকেই পরবর্তী আলোচনার রূপরেখা তৈরি করা হবে।

মার্কো রুবিও জানান, সংলাপের সূচনাতেই কোনো বিশদ বা আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছানোর বাধ্যবাধকতা নেই। বরং মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যুর ভিত্তিতে প্রাথমিক সমঝোতা হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানের পথ বের করা প্রয়োজন। তবে এর জন্য ইরানকে স্পষ্ট করতে হবে যে, তারা কোন কোন ক্ষেত্রে আলোচনা করতে চায় এবং শুরুতেই তারা ঠিক কী ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত।

ইরান দীর্ঘ সময় ধরে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করে আসলেও রুবিও তা নিয়ে তীব্র সন্দেহ পোষণ করেন। তার মতে, দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রমাণ করে যে তাদের কথা ও কাজের মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব রয়েছে। তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, ইরান যদি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হয়, তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এমনকি তখন তারা বিশ্বমঞ্চে এমন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবে, যা বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে আলোচনার বিষয়ে নমনীয় ও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের মতে, উভয় পক্ষের মধ্যে বর্তমানে প্রস্তাব বিনিময় চলছে এবং এই প্রক্রিয়াটি ভবিষ্যতে একটি ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসতে পারে।

অন্যদিকে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বরাত দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তারা পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাল্টা প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, আলোচনার পথটি এখনো বেশ কন্টকাকীর্ণ। বাঘাইয়ের মতে, মার্কিন প্রস্তাবে এমন কিছু অযৌক্তিক দাবি সংযুক্ত করা হয়েছে যা পর্যালোচনা করা তেহরানের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। বর্তমানে ইরান সরকার সেই প্রস্তাবের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করছে।