পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দিনভর একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষ করে নিজ দেশে ফিরে গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের পক্ষ থেকে তৈরি করা প্রস্তাবনার তালিকা পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে হস্তান্তরের পর তারা এই সফর সমাপ্ত করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের তথ্যমতে, এই সফরে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে নিজেদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একত্রে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশই একমত হয়েছে। বিশেষ করে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোকে বেগবান করার ওপর উভয় পক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি পাকিস্তানের অবস্থান এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টার জন্য এ সময় ইসলামাবাদকে ধন্যবাদ জানান আরাগচি।
এর আগে গত শুক্রবার আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদ পৌঁছালে তাকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের সেনা ও প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। পাকিস্তান সফর শেষে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরবর্তী গন্তব্য হতে যাচ্ছে ওমান ও রাশিয়া।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদল ফিরে যাওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনারের পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। উচ্চপর্যায়ের এই ধারাবাহিক সফরের কারণে ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় এক হাজার পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য শহরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, এসব কূটনৈতিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে টানা সাত দিন ধরে ইসলামাবাদের প্রধান সড়কগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় যান চলাচল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় শহরের নিত্যপণ্যের সরবরাহ এবং বিচারিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।