চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ৩ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। অথচ গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকটি প্রায় ৭৯ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। বিনিয়োগ থেকে আয় কমে যাওয়া এবং আমানতের বিপরীতে মুনাফা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের ৪১৪তম সভায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করা হয়। এতে দেখা যায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর— এই তিন মাসে ব্যাংকটির নিট লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা।
বড় অঙ্কের লোকসানের প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয়েও (ইপিএস)। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একক হিসাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২০ টাকা ৫১ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৪৯ পয়সা। সমন্বিত হিসাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৪১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ হিসাবে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৬২ পয়সা।
জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে একক হিসাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১২ টাকা ২৭ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১৫ পয়সা। সমন্বিত হিসাবে এ প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১২ টাকা ২৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ২০ পয়সা।
লোকসানের কারণে ব্যাংকটির নিট সম্পদমূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর একক হিসাবে ব্যাংকটির নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৬ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। সমন্বিত হিসাবে নিট সম্পদমূল্য ৭ হাজার ১৬১ কোটি ৬ লাখ টাকা থেকে কমে ৩ হাজার ৮০৬ কোটি ৫ লাখ টাকায় নেমেছে।
শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও কমেছে। একক হিসাবে গত বছরের একই সময়ে ৪৩ টাকা ২৫ পয়সা থাকলেও চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তা নেমে এসেছে ২২ টাকা ২৭ পয়সায়। সমন্বিত হিসাবে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ৪৪ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৩ টাকা ৬৪ পয়সা।
এদিকে বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকটির পরিচালন নগদ প্রবাহেও অবনতি হয়েছে। একক হিসাবে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ৩৬ টাকা ৫৪ পয়সা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ১১ টাকা ৮৯ পয়সা। সমন্বিত হিসাবে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ১২ টাকা ৪৪ পয়সা থেকে কমে ঋণাত্মক ৩৬ টাকা ১২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
ব্যাংকের সভায় উপস্থাপিত নথিতে লোকসানের কারণ হিসেবে বিনিয়োগ থেকে আয় কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ এবং ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বিনিয়োগ থেকে আয় কমেছে। পাশাপাশি আমানতের বিপরীতে মুনাফা ব্যয় বেড়েছে।
২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ। এরপর ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে গ্রুপটির বিরুদ্ধে। এসব অর্থের পুরোটাই খেলাপি হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ হারায় এস আলম গ্রুপ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংকটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন স্বতন্ত্র পরিচালকেরা। বর্তমানে ব্যাংকটির দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।