ইসরায়েল তাদের দেশে আল-জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের সম্প্রচার এবং কার্যালয় পরিচালনার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ৯০ দিনের জন্য বৃদ্ধি করেছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ইসরায়েলের যোগাযোগমন্ত্রী শলোমো কারাহির স্বাক্ষরিত আদেশে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে একাধিক সম্প্রচার, ইন্টারনেট কোম্পানি এবং ইউটিউবকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে আল-জাজিরার নেটওয়ার্ক পরিষেবা দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা দেশটিতে আল-জাজিরার কার্যক্রম বন্ধের পক্ষে ভোট দেয়। তখন ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক অভিযান তুঙ্গে ছিল।
এর কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে একটি আইন পাস করা হয়, যা ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে বিবেচিত বিদেশি সম্প্রচারমাধ্যমের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের অনুমতি দেয়। সেই বছরের সেপ্টেম্বরে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরে আল-জাজিরার কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয় এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম ও নথিপত্র জব্দ করে কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গত বছরের ডিসেম্বরে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ওই ২০২৪ সালের আইনটির মেয়াদ আরও দুই বছরের জন্য বৃদ্ধি করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। এটি ‘আল-জাজিরা আইন’ নামে পরিচিত।
জেরুজালেম ও রামাল্লায় আল-জাজিরা আরবির ব্যুরো প্রধান ওয়ালিফ আল-ওমারি জানান, “ইসরায়েলের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ৯ দিন আগে জানিয়েছে, আল-জাজিরা আরবির সম্প্রচারকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা পরিষেবা ও সামরিক বাহিনী ‘নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে বিবেচনা করছে।”
কয়েক বছর ধরেই আল-জাজিরা ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু। ২০১৭ সালে জেরুজালেমে তাদের কার্যালয় বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়। ২০২১ সালে ফিলিস্তিনের গাজায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ইসরায়েলি বাহিনী আল-জাজিরার কার্যালয় ভবন ধ্বংস করে।
গাজা উপত্যকায় চলমান নৃশংস যুদ্ধে নিহত দুই শতাধিক সংবাদকর্মীর মধ্যে অনেকেই আল-জাজিরার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এমনকি তাদের পরিবারের সদস্যরাও আঘাত পেয়েছেন। ২০২২ সালের মে মাসে আল-জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনারা গুলি করে হত্যা করে। শুরুর দিকে ইসরায়েল এ ঘটনায় দায় অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করতে বাধ্য হয়। যদিও বলা হয়েছিল, ওই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে এক সেনা গুলি করার ‘উচ্চ সম্ভাবনা’ ছিল।