ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমান বাহিনীর ১২টি শক্তিশালী স্টিলথ যুদ্ধবিমান অবতরণ করেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কেএএন-এর বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার দক্ষিণ ইসরায়েলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে এই অত্যাধুনিক এফ-২২ র্যাপ্টর যুদ্ধবিমানগুলো পৌঁছায়। পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমানগুলো মূলত রাডার ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত হামলা চালানো এবং আকাশপথে একক আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম।
বিশ্বের অন্যতম উন্নত এই যুদ্ধবিমানগুলো বর্তমানে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বহরেই রয়েছে। এগুলো মূলত শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে রাডার স্থাপনা অকেজো করে দিতে পারদর্শী। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ইরান যদি কোনো ধরণের পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালায়, তবে এই স্টিলথ বিমানগুলো আকাশপথেই তা প্রতিহত করবে। এমনকি প্রয়োজনে ইরানের অভ্যন্তরে ঢুকে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে এই যুদ্ধবিমানগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করবে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার 'স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন' ভাষণে ইরানকে এক শক্তিশালী হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ইরানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে দেওয়া হবে না। এই বক্তব্যের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। বিশাল বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের পাশাপাশি কাতার ও বাহরাইনের ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং লেবাননের মার্কিন দূতাবাস থেকে জরুরি নয় এমন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক এই অস্থিরতার মুখে জার্মানি, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একদিকে সামরিক তৎপরতা বাড়লেও অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা রয়েছে। ইরান পরমাণু চুক্তি নিয়ে সমঝোতার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও নতুন কিছু শর্তারোপ করেছে। সামগ্রিকভাবে এই পরিস্থিতি কেবল সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।