ভারতের প্রধানমন্ত্রী আজ বুধবার শুরু করছেন তার দুই দিনের ইসরায়েল সফর। তিনি ইতিমধ্যেই দেশটির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। ২০১৭ সালে মোদি প্রথমবার ইসরায়েল সফর করেছিলেন এবং সেই ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় সরকারপ্রধান হিসেবে দেশটি সফর করেছিলেন।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের সময় ভারতের অবস্থান ছিল বিরোধী, বিশেষত ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের নীতিকে ভারতের তীব্র সমালোচনা ছিল। তবে ১৯৯২ সালে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে বিকশিত হয়েছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মোদি স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। এর কিছুক্ষণ পরই দুই নেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে মোদি জেরুজালেমের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ ভাষণ দেবেন। ভাষণ শেষে তিনি রাত যাপনের জন্য তেল আবিবে ফিরে যাবেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মোদি ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট -এর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে ‘ইয়াদ ভাশেম’ মিউজিয়াম পরিদর্শন করবেন।
এরপর মোদি ও নেতানিয়াহু পুনরায় বৈঠকে বসবেন এবং দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি সাক্ষর ও পর্যবেক্ষণ করবেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে বিকেলে মোদি ইসরায়েল ত্যাগ করবেন। উভয়পক্ষের কর্মকর্তাদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে ভারত ও ইসরায়েলের কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইসরায়েল বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ ছিল। এই সময়ে বিশ্বব্যাপী মোট অস্ত্র রপ্তানির ৩.১ শতাংশ ছিল ইসরায়েলের। তথ্য অনুযায়ী, ভারত ছিল ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক (৩৪%), এরপর যুক্তরাষ্ট্র (১৩%) এবং ফিলিপাইন (৮.১%) অবস্থান করেছিল।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইসরায়েল ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক বিনিয়োগ ও সুরক্ষার উদ্দেশ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয়। ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা হলো প্রথম ‘অরগানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (OECD) দেশ যারা ভারতের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।