প্রাদেশিক গভর্নর আলেক্সান্দর মুর জানান, তেল শোধনাগারের সীমানার ভেতরে একটি ড্রোন আঘাত হেনে ধ্বংস হলে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অগ্নিনির্বাপক দল দ্রত স্থানটিতে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেছে এবং তিনি নিজেই সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন।
মস্কোর ভেতরের জ্বালানি খাতের ওপর কিয়েভের হামলা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এই নতুন আঘাত যুক্ত হলো। উল্লেখ্য, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে অবস্থিত টিউমেনের এই কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানো এটাই প্রমাণ করে যে, কিয়েভ তাদের আক্রমণাত্মক সক্ষমতার পরিধি বহুদূর সম্প্রসারিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট খাতের উপাত্ত অনুযায়ী, উক্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের বার্ষিক ধারণক্ষমতা প্রায় আশি লাখ মেট্রিক টন। কেন্দ্রটি বছরে সাড় সাত লাখ টন পেট্রোলিয়াম তরল প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল ও ডিজেল উৎপাদন করে থাকে।
চলতি বছরে কিয়েভের ড্রোনগুলো রাশিয়ার মোট চৌত্রিশটি জ্বালানি শোধনাগারের বৃহৎ অংশকে নিশানা বানিয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পর্যবেক্ষণ সংস্থার হিসাবে, বছরের মাঝামাঝি সময়ে রাশিয়ার সামগ্রিক শোধনাগার কাঠামোর প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ অংশই অকার্যকর অবস্থায় ছিল।
ধারাবাহিক এই আঘাতগুলোর ফলে রাশিয়ার নিজস্ব জ্বালানি বাজারে অচলাবস্থা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলা ও স্থানীয় বাজার স্থিতিশীল রাখতে মস্কো ইতোমধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থায় একাধিক কড়াকড়ি আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে।
এমনকি ক্রেমলিন প্রধান ভ্লাদিমির পুতিনও দেশের জ্বালানি বিভাগে ঘাটতি তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে একইসঙ্গে পরিস্থিতি সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি জানান তিনি।