বরিশালের মুলাদীতে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বসতবাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল ও অবৈধভাবে মজুত করা ডিজেল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার বিকেলে উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সুমন ঘরামীর দক্ষিণ গাছুয়া গ্রামের বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১ টন চাল ও ৮০০ লিটার ডিজেল জব্দ করার পাশাপাশি ইউপি সদস্যের ভাইকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল জেলা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার তথ্যানুযায়ী মুলাদী থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউপি সদস্য সুমন ঘরামীর ঘরের সামনে থেকে ২০০ লিটার ডিজেল ও ১ টন সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার ভাই বাচ্চু আলমের গরুর খামারে আরও ৬০০ লিটার ডিজেলের মজুত পাওয়া যায়। অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত রাখার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাচ্চু আলমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরাগ সাহা।
ইউপি সদস্যের বাড়িতে সরকারি ত্রাণের চাল পাওয়ার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম সরদার। তিনি জানান, একজন সদস্যের ব্যক্তিগত সংগ্রহে এত বিশাল পরিমাণ সরকারি চাল থাকার কোনো সুযোগ নেই এবং এই চালের উৎস সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরাগ সাহা জানান, অভিযুক্তরা ডিজেল মজুতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। জব্দ করা ডিজেল সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে, উদ্ধারকৃত সরকারি চালের বিষয়ে ইউপি সদস্য সুমন ঘরামী দাবি করেছেন তিনি এগুলো কিনে রেখেছেন। তবে চালের সপক্ষে বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।