আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত একটি বিলাসবহুল জাহাজে বিরল হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে এক বৃদ্ধ দম্পতিসহ মোট তিনজন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। এই প্রাদুর্ভাবের ফলে জাহাজে থাকা আরও অন্তত তিনজন বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য বিভাগ।
নেদারল্যান্ডসের পতাকাবাহী এমভি হন্ডিয়াস নামের জাহাজটি আর্জেন্টিনা থেকে সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছিল। তিন সপ্তাহের এই সফরে জাহাজটির অ্যান্টার্কটিকা ও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ হয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাওয়ার কথা ছিল।
বর্তমানে প্রমোদতরীটি আফ্রিকার দ্বীপদেশ কেপ ভার্দের উপকূলে নোঙর করে আছে। তবে ভাইরাসের বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন কড়া সতর্কতা জারি করেছে এবং জাহাজের কোনো আরোহীকে তীরে নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রথম প্রাণহানি ঘটে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের, যিনি জাহাজে থাকা অবস্থায় মারা যান। তার স্ত্রীও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং নিজ দেশে ফেরার পথে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিমানবন্দরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এছাড়া একজন ব্রিটিশ পর্যটক জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে অন্তত একজনের দেহে হান্টাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। জাহাজের আরও দুই কর্মী বর্তমানে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসায় রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণত ইঁদুর বা এ জাতীয় প্রাণীর বর্জ্য থেকে এই ভাইরাস ছড়ায়, যা মানুষের ফুসফুস ও কিডনিকে অকেজো করে দেয়। বর্তমানে ১৫০ জন আরোহী নিয়ে সমুদ্রযাত্রায় থাকা এই জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং উন্নত ল্যাবরেটরি পরীক্ষা চলমান রয়েছে। সমুদ্রপথে এমন প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।