শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

জামায়াতে ইসলামী কখনোই সুস্থ চিন্তা করে না: মির্জা ফখরুল

জামায়াতে ইসলামী কখনোই সুস্থ চিন্তা করে না বলে মন্তব্য করে দলটির সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অতীতের ইতিহাসের কারণেই জনগণ সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও রাজনৈতিকভাবে তাদের মোকাবিলা করতে হবে।

জামায়াতে ইসলামী কখনোই সুস্থ চিন্তা করে না: মির্জা ফখরুল

জামায়াতে ইসলামী কখনোই সুস্থ চিন্তা করে না বলে মন্তব্য করে দলটির সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অতীতের ইতিহাসের কারণেই জনগণ সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও রাজনৈতিকভাবে তাদের মোকাবিলা করতে হবে।

শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি আজকে এক পত্রিকায় একটি সংবাদ দেখলাম। সংবাদটি আমাকে অত্যন্ত আহত করেছে। সেখানে জামায়াতে ইসলামী আমির বলছেন, বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “তিনি (জামায়াত আমির) বা তার দল যে কখনোই সুস্থভাবে চিন্তা করেন না তার কথায় প্রমাণিত হয়েছে।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম একযোগে এ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই নির্বাচনের মাধ্যমেই বিএনপি ২১৩টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “সুতরাং জামায়াতে ইসলামের আমিরের এই বক্তব্য আমি আবার আমরা প্রত্যাখ্যান করছি শুধু নয়; নিন্দা জানাচ্ছি ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ৫ আগস্টের পরে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ পেয়েছি, সেই প্রচেষ্টা ও সুযোগকে নষ্ট করার বা আবার একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের পাঁয়তারা তারা (জামায়াত) করছে কিনা সেটা আমাদের চিন্তা করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভিন্নভাবে দেশকে আবার স্বৈরাচারের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কিনা, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

মে দিবস উপলক্ষে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ১ মে দুপুর ২টায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে প্রধান অতিথি থাকবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশের মানুষকে যথাযথ মর্যাদায় মহান মে দিবস পালনের আহ্বান জানান এবং দলীয় সব ইউনিটকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা আগেও বলেছি, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করবার জন্য একটি পক্ষ প্রথম থেকে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে… নির্বাচনের আগে থেকেই।” তিনি আরও বলেন, “তখনও মিথ্যাচার, প্রোপাগান্ডা, ফ্যাক ইনফরমেশন দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপিকে জনগণের কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা চলেছে। কিন্তু সেটা সফল হয়নি।”

ব্রিফিংয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সংসদ সদস্য এসএম জিলানি, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল রহমান টিপু, জাসাসের সভাপতি হেলাল খান, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব মজিবুর রহমান, উলামা দলের সভাপতি কাজী সেলিম রেজা, সদস্য আবুল হোসেন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার ও প্রচার সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মনজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।