শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী

একটি আদর্শ রাষ্ট্র ও জাতি বিনির্মাণে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

একটি আদর্শ রাষ্ট্র ও জাতি বিনির্মাণে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি উল্লেখ করেছেন, কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক গুণসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ক্রীড়াঙ্গন, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ শনিবার অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে সরকারপ্রধান এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, দেশের এই খুদে ফুটবল আয়োজনটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ। বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার 'সবার আগে বাংলাদেশ' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও আধুনিক রূপ দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নতুন এই পরিকল্পনার আওতায় চতুর্থ শ্রেণী থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের কেবল তত্ত্বীয় ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের ক্রীড়া কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হবে, যা তরুণ সমাজকে মাদকের নীল দংশন ও মুঠোফোনের অতি-আসক্তির মতো মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

বাণীতে আরও জানানো হয়, সরকার ইতিমধ্যেই 'প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬' সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এই গাইডলাইনের আলোকেই এবারের আসরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন ছাত্র ও ছাত্রী সমান সুযোগ নিয়ে এই মাঠের লড়াইয়ে মেতে উঠেছিল। চলতি বছর দেশজুড়ে দুই বিভাগেই সব মিলিয়ে মোট এক লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি ম্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা বিশালত্ব এবং আরোহীর সংখ্যার দিক থেকে বর্তমান বিশ্বে সর্ববৃহৎ ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীর প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এই সুবিশাল ক্রীড়াযজ্ঞে অংশ নেওয়া খুদে ফুটবলাররাই আগামী দিনে দেশের একেকজন যোগ্য প্রতিনিধি হয়ে উঠবে। তাদের প্রতিভা এবং সুপ্ত মেধার হাত ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের নাম নতুন করে উজ্জ্বল ও গৌরবান্বিত হবে।