শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান-ওমানের সমঝোতার দাবি, বাধা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: আইআরজিসি

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও এ জলপথ থেকে আদায় হওয়া রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে দুই দেশের আলোচনা চললেও এতে যুক্তরাষ্ট্র বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আইআরজিসি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান-ওমানের সমঝোতার দাবি, বাধা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: আইআরজিসি

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও এ জলপথ থেকে আদায় হওয়া রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে দুই দেশের আলোচনা চললেও এতে যুক্তরাষ্ট্র বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আইআরজিসি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আইআরজিসির এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম জানায়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরান ও মাসকাটের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কারণে সেই প্রক্রিয়া প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় নিচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার তেহরানে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ধাপে ধাপে স্বাভাবিক করতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয় ইরান ও ওমান।

বৈঠকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি প্রণালিতে পর্যায়ক্রমে নৌ চলাচল পুনরায় চালুর জন্য একটি বাস্তবসম্মত কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন।

পরে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম ধাপে একটি ‘যৌথ অস্থায়ী নৌ-করিডোর’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে থাকা ল্যান্ডমাইন শনাক্ত, নিষ্ক্রিয় ও অপসারণের কাজেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

ইরান ও ওমান জানিয়েছে, পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী নৌ-করিডোর প্রতিষ্ঠা এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নৌ চলাচল, তথ্য বিনিময় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ একটি আইনি কাঠামো তৈরির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানান, খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী নৌ-করিডোর চালুর ঘোষণা আসতে পারে। পাশাপাশি জলপথটির স্থায়ী সমাধান এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক দায়িত্ব নির্ধারণে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, প্রস্তাবিত অস্থায়ী নৌপথের একটি অংশ পুরোপুরি ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। ওমান উপসাগর থেকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশের রুটটি ইরানের জলসীমায় থাকবে। তবে পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার সময় ইরান ও ওমান—দুই দেশের জলসীমা ব্যবহার করতে হবে।

তিনি বলেন, অস্থায়ী নৌপথের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষ করতে আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে আরও কয়েক দফা বৈঠক হতে পারে।

ইরান ও ওমানের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় ওমান বাধা দিলে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

গত জুনে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমানকে লক্ষ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আলোচনার পথে ওমান বাধা হয়ে দাঁড়ালে দেশটির ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হতে পারে।

তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের সাম্প্রতিক এই সমঝোতাকে মার্কিন প্রশাসন কীভাবে দেখছে এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন এটি মেনে নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানা যায়নি।