মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে হাড়কাঁপানো শীত আর রাশিয়ার অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইউক্রেন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে পশ্চিমা মিত্রদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য জোরালো আবেদন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আকুতি জানান। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জেলেনস্কি জানান, কেবল চলতি সপ্তাহেই রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি ড্রোন, ১ হাজার ৩৮০টি গাইডেড বোমা এবং ৬৯টি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। রাশিয়ার এই বিধ্বংসী আক্রমণের মুখে ইউক্রেনের বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও হিটিং সিস্টেম লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় সাধারণ মানুষের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানী কিয়েভে। শহরের মেয়র ভিটালি ক্লিটস্কো জানিয়েছেন, শনিবারের ভয়াবহ হামলায় কেন্দ্রীয় হিটিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানীর অন্তত ১ হাজার ৬৭৬টি বহুতল ভবন গত দুদিন ধরে তাপ সরবরাহহীন অবস্থায় রয়েছে। কনকনে ঠান্ডার মধ্যে প্রায় ১২ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন, হাজার হাজার অ্যাপার্টমেন্টে নেই পানি ও উষ্ণতার ব্যবস্থা। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, ইতিমধ্যে শহরটি থেকে প্রায় ৫ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভিলনিয়াসে জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া এই আকাশ হামলা ঠেকানো অসম্ভব। তিনি মনে করিয়ে দেন, শীতকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে রাশিয়া ইউক্রেনীয়দের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে, যা মোকাবিলায় পশ্চিমা বিশ্বের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।