বিএনপি জোটকে ‘জুলাইবিরোধী’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ।
তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। তখন বিরোধী মত প্রকাশ করলেই তাকে বিভিন্নভাবে ট্যাগ করা হতো। তাঁর মতে, “জুলাই সনদ নিয়ে সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে।”
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে গণভোটে অনুমোদিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের বিরোধী দলের মূলতবি নোটিশের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপি নেতাদের উদ্দেশ করে পার্থ বলেন, “যারা যুদ্ধ করেছেন, যারা এখানে আছেন, তাদেরকেও বলে দিই, আপনারা জেন–জিকে প্রতিনিধিত্ব করুন। জামায়াত জেনারেশন হয়ে যাবেন না।”
তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের বিরোধিতা করে বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও ‘বিপ্লবী সরকার’ গঠন না করায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, “আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় সনদ বাস্তবায়ন করতে চাইছেন? আমাদের নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) আগে থেকেই দেওয়া।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন সে সময় অন্তর্বর্তীকালীন ‘বিপ্লবী সরকার’ গঠন করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “ছিঁড়ে ফেলে দিতেন সংবিধানকে। নতুন সংবিধান বানাতেন। পুরানো সংবিধানে থেকে আপনারা সংবিধানকেই বাতিল করে দিতে চাচ্ছেন। এটা আসলে হয় না।”
পার্থ বলেন, সংবিধান ও জুলাই সনদকে সমন্বয় করেই অগ্রসর হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী আলোচনার মাধ্যমেই করা উচিত। তিনি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে বসে সমাধান করা সম্ভব।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁর দাবি, “আপনারা জনগণকে বাধ্য করেছেন।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেও তিনি সংবিধান বাতিলের ধারণার বিরোধিতা করে বলেন, সংবিধানকে ছুড়ে ফেলা উচিত নয় এবং এ নিয়ে অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ারও প্রয়োজন নেই।