ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সন্তানদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের জেরে এক বৃদ্ধের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মরদেহ সমাহিত করতে না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শশীভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আজ শনিবার দুপুরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। মৃত ব্যক্তির নাম জলিল পণ্ডিত, যিনি বার্ধক্যের কারণে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আশেপাশের বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, প্রয়াত জলিল পণ্ডিতের পাঁচটি সংসার রয়েছে এবং সব মিলিয়ে তাঁর সন্তানের সংখ্যা ১০ জন। আজ ভোররাতে তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কবর খননের কাজ শুরু হয়। তবে ওই জমির মালিকানা ও বণ্টন নিয়ে ভাইবোনদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ তৈরি হয়।
সন্তানদের একটি পক্ষের দাবি, জলিল পণ্ডিত তাঁর চতুর্থ স্ত্রীর ছোট কন্যাসন্তান খাদিজা আক্তারকে গোপনে জমির বড় একটি অংশ দলিল করে দিয়েছেন এবং সেই জমিতেই তাঁর মরদেহ দাফন করতে হবে। তবে অন্য পক্ষটি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে। এর ফলে বাবার মরদেহ দাফন না করে উঠানে রেখেই নিজেদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মারামারি শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের সহায়তায় বসতবাড়ির আঙিনাতেই তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এই বিষয়ে শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মৃত ব্যক্তির বর্তমানে দুজন স্ত্রী জীবিত আছেন। সন্তানদের ভেতরের পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতা থেকেই এই ঝামেলার উৎপত্তি। সংবাদ পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে উত্তেজনা প্রশমন করে এবং এরপর মরদেহটি দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এই অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি।