শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, সাইরেন বাজছে কুয়েতেও

আমেরিকার নতুন করে চালানো সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস।

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, সাইরেন বাজছে কুয়েতেও
ছবি : সংগৃহীত

আমেরিকার নতুন করে চালানো সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। এরই ধারাবাহিকতায় জর্ডানের আল আজরাক ঘাঁটিতে দূরপাল্লার রকেট ছুড়েছে তেহরান। এই ঘটনার পরপরই প্রতিবেশী কুয়েতেও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।

ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বুধবার সকালে জর্ডানের ওই ঘাঁটিতে কঠিন জ্বালানিচালিত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সফল আক্রমণ চালানো হয়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মার্কিন বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যদের পাশাপাশি তাদের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও মোতায়েন রয়েছে। অবশ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আক্রমণ চলাকালীন জর্ডানের অভ্যন্তরে কোনো বিপৎসংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়নি।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কুয়েতের সামরিক বাহিনী এক জরুরি বার্তায় নাগরিকদের পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কুয়েত সেনাবাহিনীর ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, তাদের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুভাবাপন্ন যেকোনো উড়ন্ত বস্তু বা লক্ষ্যবস্তুকে প্রতিহত করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করছে। একই সাথে দেশের সাধারণ জনগণকে কেবল রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের তথ্যের ওপর ভরসা রাখতে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কার্যালয়কেও লক্ষ্যবস্তু বানায় ইরানের এই বিশেষ বাহিনী। পারস্য উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনে অবস্থিত এই নৌঘাঁটিটি মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র, যেখানে চলতি বছরের শুরুর দিকে যুদ্ধ শুরুর সময়েও বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছিল ইরান।

উল্লেখ্য, গত সোমবার হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি যুদ্ধকালীন হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়ার ঘটনা ঘটে। মার্কিন প্রশাসন এটিকে ইরানের হামলা বলে দাবি করার পর, ওয়াশিংটনের নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের উপকূলীয় বেশ কয়েকটি সামরিক অবস্থানে পাল্টা আঘাত হানে, যার জের ধরেই বর্তমান এই সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।