জাতীয় সংসদে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে রাজপথেই এর চূড়ান্ত ফয়সালা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল। শনিবার ১১ এপ্রিল বিকেলে বন্দরনগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল তার বক্তব্যে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনের একটিকে বৈধ ও অন্যটিকে অবৈধ বলে বিএনপি যে নীতি গ্রহণ করেছে, তা রাজনৈতিক দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছু নয়। তার মতে, এমন অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের আস্থার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখানোয় সাধারণ জনগণকে আজ অধিকার আদায়ে সড়কে নামতে হচ্ছে। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় এই দাবি পূরণ না হলে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সমাবেশে বিশেষ বক্তা হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থান পরিবর্তনকে তিনি জনমতের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে জানান, গণভোটের মাধ্যমে উঠে আসা জনগণের আকাঙ্ক্ষা বা রায় বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই সংগ্রাম চলবে এবং ভবিষ্যতে আন্দোলনের মাত্রা আরও বেগবান করা হবে। একই সাথে তারা বিএনপিকে জনবিরোধী অবস্থান পরিহার করে গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়ক মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত মজলিস, এনসিপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি এবং লেবার পার্টিসহ শরিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা প্রত্যেকেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।