শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো: নাহিদ ইসলাম

সরকার যদি গণভোটের ঐতিহাসিক রায়ের আলোকে ‘জুলাই সনদ’ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না করে, তবে দেশজুড়ে আবারও কঠোর গণআন্দোলন এবং চূড়ান্ত গণঅভ্যুত্থানের পথ বেছে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

সরকার যদি গণভোটের ঐতিহাসিক রায়ের আলোকে ‘জুলাই সনদ’ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না করে, তবে দেশজুড়ে আবারও কঠোর গণআন্দোলন এবং চূড়ান্ত গণঅভ্যুত্থানের পথ বেছে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দাবি আদায়ে প্রশাসনকে বাধ্য করতে যেকোনো মুহূর্তে রাজপথে তীব্র গণসংগ্রাম গড়ে তোলা হবে। শনিবার বিকেলে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মূলত গণভোটের গণরায় কার্যকর করা, তীব্র জনদুর্ভোগ নিরসন, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, তারা এখনো দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা চিন্তা করে হরতাল কিংবা অবরোধের মতো কোনো চরম ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেননি। তবে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যেকোনো সময় এ ধরনের কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

তারা এই মুহূর্তে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাননি, কিন্তু বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ক্রমশ সেই সংঘাতময় সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। প্রধানমন্ত্রী ও দলটির রাজনৈতিক দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখের কথা ও ভেতরের উদ্দেশ্য এক নয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, নির্বাচনের আগে যে জুলাই সনদ ও সংস্কারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জোর প্রচারণা চালিয়েছিলেন, নির্বাচনের পর ৭০ শতাংশ নাগরিক তার পক্ষে রায় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছেন। তিনি বলেন, মুখে বলা হচ্ছে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক স্লোগান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "নাটক কম করো প্রিয়।"

দেশের জনগণ কাউকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে মানেই এই নয় যে, তারা জনগণের সাথে ছলনা ও প্রতারণা করার লাইসেন্স পেয়ে গেছেন। নাহিদ ইসলাম বিএনপির অতীতের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর দলটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলে রাজপথে লড়াই করলেও দুঃখজনকভাবে ৫ আগস্টের পর থেকে তারা ক্ষমতার মোহে পড়ে পরোক্ষভাবে স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ শুরু করেছে।

তার মতে, ক্ষমতার মসনদ কুক্ষিগত করার পর এখন তারা রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণরায়ের কথা ভুলে গেছে এবং আসলে তারা কখনোই পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না, বরং তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা দখল করা।বিভাগীয় এই বিশাল সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।