গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর এবং শাসনতন্ত্রের আমূল সংস্কার করা না হলে যেকোনো ধরনের সাধারণ নির্বাচন, জাতীয় সংসদ কিংবা শাসনব্যবস্থা কোনোভাবেই বৈধতা পাবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
শুক্রবার বিকেলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী ও রাজনৈতিক যোগদান সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সারজিস আলম বলেন, একটি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার এবং রূপরেখার ওপর ভিত্তি করেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছিল। যার অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল গণ-অভ্যুত্থানের জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাঝে এক ধরনের উদাসীনতা ও খামখেয়ালিপনা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের সাথে স্পষ্ট বিশ্বাসভঙ্গ।
বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার পূর্ব ইতিহাস ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির অতীতের শাসনামলে একাধিকবার জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎতের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছিল। তা ছাড়া অবৈধ চাঁদাবাজি, সহিংসতা, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং দমনমূলক আচরণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি পরিষ্কার ভাষায় সতর্ক করে বলেন, এ দেশে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে প্রশাসনকে অবশ্যই জনবান্ধব হতে হবে, অন্যথায় সাধারণ জনগণ যেকোনো অগণতান্ত্রিক ও গণবিরোধী শক্তিকে মাঠেই প্রতিহত করবে। শাসনতান্ত্রিক রূপান্তর ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে দেশে পুনরায় আরেকটি গণ-অভ্যুত্থান ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উক্ত সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সাধারণ মানুষ একটি বৈপ্লবিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিল, যেখানে কোনো দুর্নীতিবাজ কিংবা চাঁদাবাজের স্থান থাকার কথা ছিল না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এক ধরনের সুক্ষ্ম কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণ করেছে এবং ফলশ্রুতিতে সিএনজি ও বাস টার্মিনালগুলোতে পুনরায় চাঁদাবাজির মহড়া শুরু হয়েছে। এই ধরনের শোষণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র-জনতা রক্ত দেয়নি।
শাসনব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি তুলে তিনি আরও বলেন, নীতিনির্ধারকেরা সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে যতই কালক্ষেপণ বা ঘোরপ্যাঁচে লিপ্ত হন না কেন, দেশের সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার কড়ায়-গন্ডায় আদায় করে ছাড়বে। কারণ দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও ভঙ্গুর ব্যবস্থার কারণেই দেশের নাগরিকেরা প্রতিনিয়ত মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন অপরিহার্য।
মতলব উত্তর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আরিফা তুহিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ইমাদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই রাজনৈতিক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইদ্রিস আলী, যুব নারী শক্তির কেন্দ্রীয় নেত্রী ইশরাত জাহান বিন্দু এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক দেওয়ান আবুল বাশারসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। উক্ত জনসভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হওয়ায় এবং যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।