জুলাই সনদের প্রতিটি নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নে বিএনপি পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের জন্য যখন সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তখন বিএনপিই সবার আগে সেখানে উপস্থিত হয়েছিল এবং এই ঐতিহাসিক সনদে সই করেছিল। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যে সনদে বিএনপি প্রথম সই করেছে, তার প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ ইনশাআল্লাহ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া বিএনপি এই রাজনৈতিক অঙ্গীকার রক্ষায় কোনো আপস করবে না।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অবস্থানের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বর্তমানে যারা বিরোধী দলে রয়েছে, শুরুতে তাদের মধ্যে এক ধরনের অনীহা ও ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এমনকি একটি নির্দিষ্ট দল তখন সই না করে নির্বাচনের পর হঠাৎ করে এতে যুক্ত হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এখন যারা জুলাই সনদ নিয়ে সরব হচ্ছেন, তারা কেন এই গুরুত্বপূর্ণ শুরুতে বিএনপির মতো এগিয়ে আসেনি। এটি তাদের আন্তরিকতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তোলে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জনগণের সেবায় বিএনপির নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের খাল খনন প্রকল্প, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং পেশাদার ক্রীড়াবিদ তৈরির মতো জনকল্যাণমুখী উদ্যোগগুলোতে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা কাদের ওপর ভর করছে এবং কারা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।
জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানস্থলে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।