মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে দেশে অসাধু উপায়ে তেল মজুতের অপচেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা, বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার সকালে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বিজিবি সদর দপ্তরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে অনেক ক্ষেত্রে ইউনিট সদর থেকে দূরে অস্থায়ী বেস ক্যাম্প স্থাপন করে বিজিবি সদস্যরা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গত ২৫ মার্চ সকাল থেকেই দেশের ৯টি জেলার মোট ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ তেল ডিপোর সুরক্ষায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলায় একটি, কুড়িগ্রামে দুটি, রংপুরে তিনটি, রাজশাহীতে তিনটি, সিলেটে দুটি, মৌলভীবাজারে তিনটি, কুমিল্লায় তিনটি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সুনামগঞ্জে একটি করে ডিপো রয়েছে।
মো. শরীফুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি অস্থায়ী ক্যাম্পে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং নাশকতা রুখতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত ও বিক্রয় বন্ধে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। সংশ্লিষ্ট ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি বিজিবির এই দৃশ্যমান উপস্থিতির ফলে জনগণের মাঝে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আস্থা বাড়ছে।
ডিপোর নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধেও বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সীমান্তে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি নৌ টহল ও চেকপোস্টের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে নিয়োজিত ট্রাক ও লরিসহ সকল যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।