শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কাঁটাতারের বেড়া বসবে মিয়ানমার সীমান্তে, ভারত সীমান্ত ‘বিবেচনাধীন’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার এবং সীমান্ত অপরাধ দমনে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

কাঁটাতারের বেড়া বসবে মিয়ানমার সীমান্তে, ভারত সীমান্ত ‘বিবেচনাধীন’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার এবং সীমান্ত অপরাধ দমনে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি আরও জানান, ভারতের সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।

সরকারের সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিয়ানমার সীমান্তে বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ এবং ভারত সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অনুরূপ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এসব প্রকল্পের ব্যয়, সময়সীমা কিংবা ভারত সীমান্তের নির্দিষ্ট কোনো এলাকার নাম তিনি প্রকাশ করেননি। দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকায় ইতোমধ্যে স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় ড্রোন, থার্মাল ইমেজার, নাইট ভিশন ডিভাইস এবং সিসিটিভির মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

সীমান্ত অপরাধ দমনে নতুন বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি) ও টিওবি স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে টহল ব্যবস্থার পরিসর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আউট পোস্টগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমেছে। ঝুঁকি বিবেচনায় হাই-রিস্ক জোন চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমান্ত হত্যা ও চোরাচালান রোধে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে রাতের যৌথ টহল বাড়ানো হয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়াকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের প্রতিটি সম্মেলনে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফের পুশইন করা হাজারো মানুষকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গত এক বছরে বিজিবি ১,৯৭৯ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ বেশি বন্দি রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন কারাগার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে কারা বিভাগের শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া অনলাইন জুয়া ও বেটিং সাইট নিয়ন্ত্রণে সরকার ১৮৬৭ সালের প্রচলিত আইন রহিত করে নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে আরও স্পষ্ট করেন, সীমান্তে মাদক, অবৈধ অস্ত্র বা গোলাবারুদ প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।