কাতারের আধুনিক রূপকার ও সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক শোকবার্তায় তিনি এই সমবেদনা জানান।
চিঠিতে বর্তমান আমিরের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা এবং কাতারের সাবেক আমিরের বিদায়ের সংবাদে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন। একই সাথে বাংলাদেশ সরকার, দেশের আপামর জনগণ এবং নিজের পক্ষ থেকে কাতারের রাজপরিবার, সেদেশের সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান তাঁর বার্তায় প্রয়াত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিকে একজন অত্যন্ত দূরদর্শী ও প্রাজ্ঞ বিশ্বনেতা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মরহুম আমিরের বিচক্ষণ দেশনায় কাতার একবিংশ শতাব্দীতে এসে একটি আধুনিক, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, শিক্ষার প্রসার ও আন্তর্জাতিক মেলবন্ধনে প্রয়াত আমিরের অনন্য অবদান বিশ্ববাসী সবসময় শ্রদ্ধার সাথে মনে রাখবে।
শোকবার্তায় বাংলাদেশের সরকারপ্রধান দুই দেশের ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান সুদৃঢ় ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বন্ধনকে ঢাকা সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। পারস্পরিক গভীর বিশ্বাস, অভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং দুই দেশের জনগণের দীর্ঘদিনের মেলবন্ধনের ওপর ভিত্তি করেই এই সম্পর্ক যুগের পর যুগ ধরে বিকশিত হয়েছে।
বর্তমান এই কঠিন সময়ে কাতারের রাজপরিবার ও জনগণের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, এই গভীর শোকের মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রার্থনা ও সহানুভূতি সবসময় তাদের সাথে রয়েছে। তিনি পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে প্রয়াত সাবেক আমিরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দানের জন্য দোয়া করেন। পাশাপাশি শোকগ্রস্ত রাজপরিবারের সকল সদস্যকে এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোক কাটিয়ে ওঠার ধৈর্য ও মানসিক শক্তি দানের জন্য প্রার্থনা জানান।