সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

খালে শিশুসন্তানকে নিয়ে নারীর ঝাঁপ, শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় শিশুসন্তানকে নিয়ে ইছামতী খালে ঝাঁপ দিয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস (৩২) নামের এক নারী। এ ঘটনায় শিশু সন্তান রাইসা (৮) মারা গেলেও মা জান্নাতুল ফেরদৌসকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

খালে শিশুসন্তানকে নিয়ে নারীর ঝাঁপ, শিশুর মৃত্যু
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় শিশুসন্তানকে নিয়ে ইছামতী খালে ঝাঁপ দিয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস (৩২) নামের এক নারী। এ ঘটনায় শিশু সন্তান রাইসা (৮) মারা গেলেও মা জান্নাতুল ফেরদৌসকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার খাদ্যগুদাম সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত রাইসা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের প্রবাসী মোহাম্মদ কায়সারের ছোট মেয়ে এবং আনোয়ারা সদরের একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল। জান্নাতুল ফেরদৌস চাতরী ইউনিয়নের আবদুল লতিফের মেয়ে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে ইছামতী খালে এক নারীকে হাবুডুবু খেতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করার সময় পাশে একটি শিশুর দেহ ভাসতে দেখেন। দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু রাইসাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে মা জান্নাতুল ফেরদৌসের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল্লাহ বলেন, “খবর পাওয়া মাত্রই আমরা খাল থেকে মুমূর্ষু মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।”

নিহত শিশুর ফুফু হাসিনা আকতার জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে রাইসাকে স্কুলে নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন জান্নাতুল। দীর্ঘ সময় পার হলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা তাঁকে খুঁজছিলেন। পরে খালের পানি থেকে তাঁদের উদ্ধারের খবর পান। তবে কেন বা কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে পরিবারের কেউ কিছু বলতে পারছেন না।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সন্তানসহ মা আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে খালে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। নিহত শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসাধীন মা সুস্থ হলে এই ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।