বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

খণ্ডকালীন কাজের অধিকার সীমিত করতে চায় জার্মানি

দেশের স্থবির অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খণ্ডকালীন বা পার্ট-টাইম কাজের আইনি অধিকার সীমিত করার পরিকল্পনা করছে জার্মানির রক্ষণশীল রাজনৈতিক দলগুলো। ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান অংশীদার সিডিইউ দলের পক্ষ থেকে আসা এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছে।

খণ্ডকালীন কাজের অধিকার সীমিত করতে চায় জার্মানি
ছবি: এএফপি

দেশের স্থবির অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খণ্ডকালীন বা পার্ট-টাইম কাজের আইনি অধিকার সীমিত করার পরিকল্পনা করছে জার্মানির রক্ষণশীল রাজনৈতিক দলগুলো। ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান অংশীদার সিডিইউ দলের পক্ষ থেকে আসা এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছে।

ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানি বেশ কিছুদিন ধরেই আর্থিক মন্দা ও দক্ষ শ্রমিকের সংকটে ভুগছে। এমন পরিস্থিতিতে চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস মনে করেন, অর্থনৈতিক উত্তরণের জন্য নাগরিকদের আরও বেশি সময় পূর্ণকালীন কাজে ব্যয় করা জরুরি। বর্তমানে জার্মানিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ, বিশেষ করে নারীরা ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী খণ্ডকালীন কাজ করেন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র সন্তান লালন-পালন, অসুস্থ আত্মীয়ের সেবা কিংবা কারিগরি শিক্ষার মতো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কেউ আর খণ্ডকালীন কাজের আইনি সুযোগ পাবেন না। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সিডিইউর কংগ্রেসে এই বিষয়টি নীতিগত আলোচনার জন্য তোলা হবে।

এই প্রস্তাবের বিপরীতে মধ্য-বামপন্থি দল এসপিডি এবং প্রভাবশালী শ্রমিক ইউনিয়নগুলো কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মেকলেনবুর্গ-ভরপোমার্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানুয়েলা শভেসিগ মনে করেন, জার্মানরা যথেষ্ট কাজ করে না—এমন ঢালাও মন্তব্য করা দায়িত্বহীনতা। অন্যদিকে, দেশটির বড় শ্রমিক ইউনিয়ন আইজি মেটাল দাবি করেছে যে, মানুষ কাজ করতে চায় না বিষয়টি তেমন নয়; বরং যারা পূর্ণকালীন কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক ও কাঠামোগত পরিবেশের অভাব রয়েছে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের এই আলোচনার মধ্যেই ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস অসুস্থতাজনিত ছুটির বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, জার্মানিতে শ্রমিকদের অসুস্থতাজনিত ছুটির হার অতিরিক্ত এবং টেলিফোনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ছুটি পাওয়ার প্রক্রিয়াটি উৎপাদনশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার মতে, বছরে গড়ে তিন সপ্তাহ অসুস্থতাজনিত ছুটি নেওয়া একটি উন্নত অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয়। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি জার্মানির কর্মসংস্থান নীতিতে বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা নিয়ে দেশটির ভেতরে ও বাইরে বিতর্ক দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।