বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৪ জনের

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া গ্রামে আজ শুক্রবার সকালে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করার কথা ছিল। নতুন পুত্রবধূকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরা। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য অনুযায়ী নতুন দম্পতিকে নিয়ে আনন্দ-উল্লাস আর ভোজের আয়োজনে মুখর থাকার কথা ছিল পুরো বাড়িটি। কিন্তু এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সেই আনন্দকে বিষাদে রূপান্তর করেছে। বরণ ডালা সাজানোর পরিবর্তে এখন বাড়ির উঠানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে ৯টি কফিন।

খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৪ জনের
ছবিঃ সংগৃহীত

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া গ্রামে আজ শুক্রবার সকালে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করার কথা ছিল। নতুন পুত্রবধূকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরা। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য অনুযায়ী নতুন দম্পতিকে নিয়ে আনন্দ-উল্লাস আর ভোজের আয়োজনে মুখর থাকার কথা ছিল পুরো বাড়িটি। কিন্তু এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সেই আনন্দকে বিষাদে রূপান্তর করেছে। বরণ ডালা সাজানোর পরিবর্তে এখন বাড়ির উঠানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে ৯টি কফিন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। সেখানে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে নবদম্পতিবাহী মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাস চালকসহ দুই পরিবারের মোট ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গভীর রাতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের দেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মোংলায় ৯টি, কয়রায় ৪টি এবং রামপালে চালকের মরদেহ নেওয়া হয়েছে শেষ বিদায়ের জন্য।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভা ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে বর আহাদুর রহমান সাব্বির এবং পুত্রবধূ মারজিয়া আক্তার মিতু। এছাড়া কনের বোন লামিয়া, নানি আনোয়ার বেগম, দাদি রাশিদা বেগম এবং পরিবারের সদস্য আঞ্জুমান, পুতুল, ঐশী, শিশু ইরাম, সামিউল ও আলিফ এবং গাড়িচালক নাঈম শেখও এই তালিকায় রয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় বরের ভাই জনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। নিজের স্ত্রী, সন্তান ও ভাই-বোনসহ সবাইকে হারিয়ে তিনি এখন নির্বাক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জুমার নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাফর আহমেদ জানিয়েছেন, শোকাতুর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মানবিক বিবেচনায় কোনো প্রকার ব্যবচ্ছেদ ছাড়াই মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে।