সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

খুলনায় এনসিপি পরিচয়ে চাঁদাবাজি, তিনজন গ্রেপ্তার

খুলনার কয়রা উপজেলার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামের বাড়িতে এনসিপির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

খুলনায় এনসিপি পরিচয়ে চাঁদাবাজি, তিনজন গ্রেপ্তার

খুলনার কয়রা উপজেলার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামের বাড়িতে এনসিপির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত সোমবার বিকেলে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার নেসার উদ্দিন সড়কের শফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মেহেদি হাসান মিরাজ, আল নাঈম ও মিরাজ গাজী। এ ঘটনায় সোনাডাঙ্গা থানায় চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম একাধিক মামলার আসামি। ঘটনার দিন দুপুরে তিনজন ব্যক্তি বাড়িতে ভাড়া নেওয়ার কথা বলে প্রবেশ করেন। এরপর তারা নিজেদের এনসিপির প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেন যে বাড়িতে একজন আওয়ামী লীগের নেতা আত্মগোপনে আছেন। একপর্যায়ে তারা শফিকুল ইসলামের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরিস্থিতি বুঝে শফিকুল ইসলামের মেয়ে শাহনাজ পারভীন গোপনে সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শাহনাজ পারভীন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার তিনজনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করছেন কেন তারা ওই বাড়িতে এসেছেন। জবাবে একজন আটক ব্যক্তি বলেন, তাঁদের কাছে খবর ছিল সেখানে কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আছেন এবং বিষয়টি এনসিপির খুলনা জেলার প্রধান সমন্বয়কারীর কাছে জানানো হয়েছে।

শাহনাজ পারভীন বলেন, “প্রথমে তারা বাসা ভাড়া নেবে কি না জানতে এসেছে। পরে নিজেদের এনসিপির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাঠানো দাবি করে। এক পর্যায়ে তারা ২০ লাখ টাকা চাঁদা চায়। আমার বাবা টাকা দিতে অপারগতা জানালে তারা দুর্ব্যবহার শুরু করে। তখন আমি গোপনে পুলিশকে জানাই।”

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে। খুলনা জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মাহমুদুল হাসান ফয়জুল্লাহ বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত তিনজন আমাদের দলের সদস্য নয় এবং কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। কেউ দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধ করলে আমরা কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।