আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, আক্রমণ চলাকালে কিয়েভ শহরজুড়ে পরপর ১২টিরও বেশি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়, যা সমগ্র নগরবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
কিয়েভের নগরপিতা ভিটালি ক্লিচকো তথ্য প্রকাশ করে জানান, শেভচেনকিভস্কি ও সোলোমিয়ানস্কি অঞ্চলের কয়েকটি আবাসিক ভবন হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব ভবনে আটকে পড়াদের বের করে আনতে জরুরি উদ্ধারকারী দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে ১৩ ও ১৭ বছর বয়সী দুটি কিশোর রয়েছে, যাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এছাড়া দারনিৎসকি এলাকার একটি মালবাহী গুদামঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং হলোসিভস্কি অঞ্চলে ভবনের ওপর আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রের খণ্ডিতাংশ পড়ে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্টগুলোতে বর্তমানে উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সাময়িক পর্যবেক্ষণকারীদের মতে, সম্প্রতি কিয়েভ লক্ষ্য করে আক্রমণের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে মস্কো। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে সামরিক শক্তি বাড়াতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার জোরদার করছে রাশিয়া।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর কাছে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিজ দেশে উৎপাদনের লাইসেন্স অর্জনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্ত করেছেন, ইউক্রেনকে এই ধরনের স্পর্শকাতর সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, কৌশলগত ও শীর্ষমানের সামরিক প্রযুক্তি অন্য কোনো রাষ্ট্রের নিকট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়, কেননা ভবিষ্যতে এসব প্রযুক্তির অপব্যবহারের ঝুঁকি থেকে যায়।