বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান মন্তব্য করেছেন যে, দেশের উন্নয়নমূলক কাজের ব্যয় নির্বাহের জন্য কর আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
করের পরিধি না বাড়িয়ে যদি কেবল প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় বাড়ানো হয়, তবে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিটিও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
সোমবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ বিষয়ক এক নাগরিক সংলাপে তিনি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। বেসরকারি উদ্যোগ নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সংলাপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় তৌফিকুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নয়ন চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে আগামী অর্থ বছরের বাজেটে ঋণের বোঝা আরও ভারী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) বাংলাদেশকে ঋণজনিত ঝুঁকির মধ্যে থাকা দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
তিনি তার উপস্থাপনায় জানান, আগামী অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা পূরণ করতে হলে প্রায় ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রয়োজন হবে। অথচ দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ২০১১ সালে, যার পরিমাণ ছিল মাত্র ২৭ শতাংশের কিছু বেশি। এরপর আর কখনো এই ধরনের উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
সিপিডির এই গবেষক পরামর্শ দেন, কর আদায়ের পরিধি বা ক্ষেত্র সম্প্রসারণের পাশাপাশি কিছু সুনির্দিষ্ট খাতে করের হার কমিয়ে আনার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের আগে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গভীর ও নিখুঁত বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এই সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। উন্মুক্ত আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, ড. এ কে এনামুল হক, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, শারমিন্দ নীলোর্মি এবং ব্যবসায়ী নেতা মো. ফজলুল হকসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।