দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে কৃষিখাতকে প্রধান ইঞ্জিন হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, সঠিক পরিকল্পনা এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সমন্বয়ে বাংলাদেশ কেবল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই হবে না, বরং চাহিদার অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনেও সক্ষম হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি বিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। এছাড়াও কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ এবং খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভৌগোলিক অবস্থান কৃষি কাজের জন্য বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি উপযোগী। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি খাদ্য বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ হচ্ছে কৃষি এবং সিংহভাগ মানুষের জীবনযাত্রা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসনের নেওয়া অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির আওতায় কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। পাশাপাশি সেচ সুবিধা প্রসারে সারাদেশে খাল খনন প্রকল্প ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কৃষিকে জাতীয় অর্থনীতির প্রধান শক্তিতে রূপান্তর করতে সরকার একটি সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে বলে তিনি সভায় অবহিত করেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাসভূমি গড়ে তোলা প্রতিটি সরকারি কর্মীর নৈতিক দায়িত্ব। নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে নিজ নিজ কর্মস্থলে ভূমিকা রাখলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে। আগামী দিনে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
একই সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান কৃষিখাতের উন্নয়নে দক্ষতা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দেন। তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।