রবিবার সংসদীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, দেশের গ্রামীণ এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, যাকে মেরামত বা লোডশেডিং যে নামেই ডাকা হোক না কেন। তার এই বক্তব্যের পক্ষে বিরোধী শিবিরের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই জনপ্রতিনিধি আরও মনে করিয়ে দেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রী তাকে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা দিয়েছিলেন যে ১ মে-র মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর আরও এক মাসের বেশি পার হয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।
রুমিন ফারহানার এই প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ মন্ত্রী দেশে বিদ্যমান গ্যাস সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সার কারখানার চেয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে বিদ্যুৎ ও সার কারখানা দুটির জন্যই একযোগে গ্যাস চাওয়া অবাস্তব মন্তব্য করে মন্ত্রী জানান, সীমাবদ্ধতার কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল রাখতেই আশুগঞ্জে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিগত ১৭ বছরে নতুন কোনো গ্যাসকূপ খনন না করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো ড্রিলিং শুরু করেছে এবং সাফল্য এলে আশুগঞ্জের মতো কারখানায় সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রীর এমন ব্যাখ্যার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হস্তক্ষেপ করেন এবং মন্ত্রীর আগের দেওয়া আশ্বাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, নির্দিষ্ট তারিখ থেকে গ্যাস সরবরাহের যে কথা মন্ত্রী দিয়েছিলেন, তা দৃশ্যত কার্যকর হয়নি। সেই সাথে স্পিকার মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সংসদে যেকোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে খনন কাজ বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে নেওয়া উচিত।
এর আগে জামায়াতের সংসদ সদস্য গোলাম রসুল গ্রামীণ এলাকায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রীর দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। স্পিকার তখন বিদ্যুতের ঘাটতির কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রী আবারও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে দাবি করেন, দেশে কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি বা লোডশেডিং নেই; বরং ঝড়-বৃষ্টির কারণে গাছপালা ভেঙে পড়লে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখতে হয়।