শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

‌‘কুমারী মেয়ের’ নীরবতাই বিয়ের সম্মতি

আফগানিস্তানে নতুন পারিবারিক আইন কার্যকর করেছে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার, যেখানে বিয়ে, বিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ব এবং বিয়ে বাতিল সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে একটি সুস্পষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত এই আইনে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

‌‘কুমারী মেয়ের’ নীরবতাই বিয়ের সম্মতি

আফগানিস্তানে নতুন পারিবারিক আইন কার্যকর করেছে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার, যেখানে বিয়ে, বিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ব এবং বিয়ে বাতিল সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে একটি সুস্পষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত এই আইনে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন ৩১ অনুচ্ছেদের এই ডিক্রিটি অনুমোদন করেছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। বিষয়টি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আফগান সংবাদমাধ্যম আমু টিভি।

আইনের বিতর্কিত একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো ‘কুমারী মেয়ের’ নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে ধরা হবে। তবে কোনো ছেলে বা বিবাহিত নারীর নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে না।

নতুন আইনে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের অনুমতিও রাখা হয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বাবা ও দাদাকে।

ডিক্রিতে আরও বলা হয়েছে, আত্মীয়দের মাধ্যমে নির্ধারিত কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়ের বিয়ে বৈধ হতে পারে, যদি পাত্র সামাজিকভাবে উপযুক্ত হন এবং মোহরানা ধর্মীয় মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

এছাড়া আইনে ‘খিয়ার আল-বুলুগ’ বা ‘যৌবনপ্রাপ্তির পর অধিকার’ নামে একটি বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় বয়ঃসন্ধির আগে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে, যৌবনপ্রাপ্তির পর সন্তানের অনুরোধে বাতিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় আদালতের অনুমোদন বাধ্যতামূলক থাকবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, জীবনসঙ্গী অনুপযুক্ত বিবেচিত হলে বা মোহরানায় বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকলে সেই বিয়ে আইনগতভাবে বৈধ হবে না।

ডিক্রিতে তালেবান বিচারকদের ব্যভিচার, ধর্ম পরিবর্তন, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং ‘জিহার’ (প্রাচীন ইসলামি ধারণা, যেখানে স্বামী স্ত্রীকে এমন নারী আত্মীয়ের সঙ্গে তুলনা করেন যাকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ) সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তিতে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এসব ক্ষেত্রে বিচারকরা বিশেষ পরিস্থিতিতে বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড বা অন্যান্য শাস্তির নির্দেশ দিতে পারবেন।

২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে তালেবানের নীতির কারণে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন এই আইন কার্যকর করার ঘোষণা এলো।

বর্তমানে আফগানিস্তানে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া নিষিদ্ধ। পাশাপাশি নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, কর্মসংস্থান, ভ্রমণ এবং জনসমাবেশে অংশগ্রহণের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।