বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে উন্নয়নের নতুন যাত্রা: জামায়াত আমির

দেশের পিছিয়ে পড়া জেলা কুড়িগ্রামকে কেন্দ্র করে নতুন উন্নয়নের অভিযাত্রা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “বঞ্চিত মানুষের আর দাবি জানাতে হবে না, মিছিল করতে হবে না—উন্নয়ন করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।” তাঁর পরিকল্পনায় কুড়িগ্রাম হবে কৃষি শিল্পের কেন্দ্র, যেখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষ স্বাবলম্বী হবে।

কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে উন্নয়নের নতুন যাত্রা: জামায়াত আমির

দেশের পিছিয়ে পড়া জেলা কুড়িগ্রামকে কেন্দ্র করে নতুন উন্নয়নের অভিযাত্রা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “বঞ্চিত মানুষের আর দাবি জানাতে হবে না, মিছিল করতে হবে না—উন্নয়ন করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।” তাঁর পরিকল্পনায় কুড়িগ্রাম হবে কৃষি শিল্পের কেন্দ্র, যেখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষ স্বাবলম্বী হবে।

আজ বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম শহরের সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, কুড়িগ্রামের মূল সমস্যা তিনটি বড় নদী—তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র। এই নদীগুলোকে ধ্বংস করে অঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। “রাষ্ট্রের বাজেট লুটপাট করে দেশকে নিঃস্ব করা হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এলে নদী শাসনের নামে লুটপাট হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা হবে,” যোগ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী কেবল দলের জয় চায় না, দেশের ১৮ কোটি মানুষের জয় চায়। বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং ঐক্য ও সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। “কোনো দলীয় রাষ্ট্র নয়, জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই আমাদের উদ্দেশ্য।”

তিনি আরও মন্তব্য করেন, তিস্তাপাড়ের মানুষদের মধ্যে পরিবর্তনের প্রতি গভীর আগ্রহ এবং গণজোয়ার দেখতে পাচ্ছেন।

অপপ্রচারের অভিযোগ

জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, বর্তমানে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত। তিনি বলেন, “আমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও অশালীন কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর সেই সুযোগে একটি পক্ষ সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই অপপ্রচারের ‘তাইরে নাইরে’ শুরু করেছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু স্বার্থান্বেষী নয়, কিছু তথাকথিত প্রভাবশালী ব্যক্তিও এই অপপ্রচারে জড়িত ছিলেন। তবে, “অপপ্রচারকারীরা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। আমাদের শক্তিশালী সাইবার টিম দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত করে তাদের অপতৎপরতা রুখে দিয়েছে। ইতোমধ্যে মূল অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।”

শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও নারী নিরাপত্তা

শহীদদের স্বপ্নের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ। জামায়াতের নিজস্ব কোনো স্বপ্ন নেই—শহীদদের স্বপ্নই আমাদের পথনির্দেশ।”

নারী নিরাপত্তার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একটি গোষ্ঠী নারীদের প্রতি অশালীন আচরণ ও হুমকি দিচ্ছে, যা লজ্জাজনক। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বন্ধ করা হবে এবং সব ধর্মের নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। যে দেশে মায়েদের নিরাপত্তা নেই, সে দেশ আমার হতে পারে না।”

যুব শক্তি ও কর্মসংস্থান

তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “অপমানজনক বেকার ভাতা নয়, বরং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে। দেশ গড়ার চাবিকাঠি যুবকদের হাতে থাকবে। তারা ককপিটে বসবে, আমরা পেছন থেকে সমর্থন দেবো।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “দমন-পীড়ন বা সংকট—কোনো অবস্থাতেই জামায়াতে ইসলামী জনগণকে ছেড়ে যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।”

তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী প্রতিশোধমূলক রাজনীতিতে জড়ায়নি বলেও দাবি করেন।

নির্বাচন ও দেশপ্রেম

জনসভায় তিনি বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে আজাদি আর ‘না’-কে গোলামি হিসেবে দেখছি। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে প্রথমে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। আমরা আর গোলামি চাই না, আজাদ হয়ে বাঁচতে চাই, আজাদি হয়ে বাঁচবো।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, চাঁদাবাজি, বাটপার বা মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। “জনগণের বাংলাদেশ গড়াই আমাদের একমাত্র অঙ্গীকার।”