কুয়েতের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান পুনরায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সবশেষ এই হামলায় দেশটির একটি পানি শোধনাগার এবং একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার তীব্রতায় দুটি পাওয়ার জেনারেশন ইউনিট সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফাতিমা আব্বাস জোহার হায়াত এই আক্রমণকে ‘ক্রিমিনাল আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ড্রোন হামলার ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট অকেজো হয়ে পড়েছে। এর আগে ইরানের ড্রোন লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল কুয়েতের একটি তেল কমপ্লেক্স এবং সরকারি মন্ত্রণালয় ভবন। সেই হামলায় তেল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাঙ্কারেও একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলো যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানের প্রধান টার্গেট ছিল। তবে গত কয়েক দিন ধরে ইরান পরিকল্পিতভাবে দেশটির জ্বালানি ও সেবা খাতের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। দুই দিন আগেও কুয়েতের একটি পানি শোধনাগার ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছিল, যা ওই স্থাপনাগুলোকে আগে থেকেই নাজুক করে রেখেছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। সেই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে ধারাবাহিক আক্রমণ শুরু করে। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনাকর অবস্থা বিরাজ করছে।