শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

লেবাননে নিরাপত্তা জোনের নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলো ইসরায়েল

দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন নিরাপত্তা অঞ্চলের একটি নতুন ও বর্ধিত মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

লেবাননে নিরাপত্তা জোনের নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলো ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন নিরাপত্তা অঞ্চলের একটি নতুন ও বর্ধিত মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও তেল আবিব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এখনই এই অঞ্চল থেকে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি সরাবে না। একই সাথে এই জোনের বাইরেও যেকোনো সময় সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

নতুন এই মানচিত্রে দক্ষিণ লেবাননের পূর্ব থেকে পশ্চিম সীমান্ত বরাবর ইসরায়েলের ভেতর থেকে লেবাননের ভূখণ্ডে প্রায় ১০ কিলোমিটার বা ৬ মাইল গভীর পর্যন্ত এলাকা আইডিএফ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টি দেখানো হয়েছে। লাল রঙে চিহ্নিত এই নতুন অঞ্চলটি গত এপ্রিল মাসের বাফার জোন বা 'ফরওয়ার্ড ডিফেন্স লাইন' এর তুলনায় আরও বেশি গভীরে প্রসারিত হয়েছে। পূর্ববর্তী সেই সীমানাটি লিটানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং এর আওতায় লেবাননের প্রায় ৫২টি গ্রাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে নতুন মানচিত্রে ইসরায়েল তাদের অবস্থান আরও কয়েক কিলোমিটার ভেতরে নিয়ে গেছে এবং লিটানি নদীর উত্তরাংশে অবস্থিত হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি নাবাতেহর নিকটবর্তী বেশ কিছু এলাকাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা উল্লেখ করেছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি সেনারা ইতিমধ্যেই অবস্থান নিয়ে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিযান পরিচালনা করে আসছে, যা এতদিন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার শান্তি চুক্তিকে এক প্রকার উপেক্ষা করেই এই মানচিত্রটি জনসমক্ষে আনা হয়। ইসরায়েলের একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এই বিষয়ে জানান, আইডিএফ জওয়ানরা লেবাননের এই নির্দিষ্ট অংশগুলোতে অবস্থান করে নিজেদের বাহিনী এবং ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকার সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের হুমকি মোকাবেলা করে যাবে। ইসরায়েলি প্রশাসনের দাবি, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আসা বিপদের আশঙ্কা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখান থেকে সরবে না এবং এই অবস্থান বজায় রাখার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সাথে তাদের আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে লেবাননসহ সব কটি যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের পাশাপাশি দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার জন্য সব পক্ষকে উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। তবে গত মার্চ মাস থেকে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান চালিয়ে আসা ইসরায়েল এই আহ্বানকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। লেবাননে ধারাবাহিক ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং তীব্র উদ্বাস্তু সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

লেবাননে চলমান এই সামরিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প।

তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, এই ধরনের হঠকারী হামলার কারণে পুরো শান্তি প্রক্রিয়াই ভেস্তে যেতে বসেছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত দিলেও নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দেন, নিজেদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আগে তারা কোনোভাবেই লেবানন ছাড়বেন না। মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সমঝোতাকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য অপর্যাপ্ত মনে করছেন নেতানিয়াহু। আর সে কারণেই মার্কিন প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে ইসরায়েল রণক্ষেত্রে নিজেদের স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখার নীতিতে হাঁটছে।