শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

লীগ ইস্যুতে দুই বড় দলের ইনসিকিউরিটি কাজ করছে: মাহফুজ আলম

আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে যে নানামুখী বিতর্ক চলছে, তার পেছনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এক ধরনের মানসিক অনিরাপত্তাবোধ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

লীগ ইস্যুতে দুই বড় দলের ইনসিকিউরিটি কাজ করছে: মাহফুজ আলম
ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে যে নানামুখী বিতর্ক চলছে, তার পেছনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এক ধরনের মানসিক অনিরাপত্তাবোধ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

সোমবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করা এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি এই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগকে ঘিরে যে ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনা দৃশ্যমান, তা আসলে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক শক্তির মধ্যকার ভেতরের অস্থিরতা ও সংশয়েরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি অতীত ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, বিএনপি এখনও ১৯৮৬ এবং ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ও নিজেদের অভিজ্ঞতা বিস্মৃত হতে পারেনি। অন্যদিকে জামায়াতের অবস্থানের পেছনে কাজ করছে দীর্ঘদিনের আদর্শিক শত্রুতা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার এক গভীর আশঙ্কা, যার মূল ভিত্তি তৈরি হয়েছিল নব্বইয়ের দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে।

মাহফুজ আলমের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর এই পারস্পরিক অবস্থানের কারণে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্ম, যারা বিগত আওয়ামী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটাতে রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। তিনি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দিনে যদি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট ও সমীকরণ কোনোভাবে পরিবর্তিত হয়, তবে এই তরুণ প্রজন্মকেই তার বড় খেসারত দিতে হতে পারে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তরুণদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ ও ক্ষুদ্র রাজনৈতিক বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে যুবসমাজকে আরও বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে মনোযোগী হতে হবে। কেবল প্রচলিত রাজনীতির মাঠে সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের সুদৃঢ় অবস্থান ও প্রভাব তৈরি করার তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো এবং দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

ফেসবুক বার্তায় তিনি অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, অতীতেও বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তরুণদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার নজির রয়েছে। বড় দলগুলোর একপাক্ষিক রাজনৈতিক বয়ান এবং উসকানিমূলক কৌশলের ফাঁদে পড়ে এর আগে বহু তরুণের অমিত সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক শক্তি অকালেই অপচয় হয়েছে।

মাহফুজ আলম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, চলমান এই লড়াইটি মূলত একটি নির্দিষ্ট প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের সংগ্রাম। তাই পূর্ববর্তী প্রজন্মের রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর অন্ধভাবে নির্ভরশীল না হয়ে, তরুণদের নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও কৌশল নিজেদেরই স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

দলের ভেতরে ও বাইরে মতাদর্শগত নানা পার্থক্য বা বিতর্ক থাকতে পারে স্বীকার করে তিনি বলেন, আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তি আক্রমণ বা পারস্পরিক বিদ্বেষের রাজনীতিতে জড়ানো ঠিক হবে না। রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও চব্বিশের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সাধারণ চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রেখে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।

বার্তার একদম শেষাংশে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, যারা স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন, তারা চরম জীবনঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা জেনেই মাঠে নেমেছিলেন। তরুণদের সেই অদম্য সাহসের সঙ্গে যদি এখন সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক শক্তি এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটানো যায়, তবে দেশের মাটিতে ভবিষ্যতে কোনো রূপ ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানো সম্ভব হবে।