তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির কার্গো আসতে শুরু করায় দেশে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। সোমবার রাত ১০টা থেকে সরবরাহ বাড়ানোর তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা। প্রায় দুই মাস ধরে গ্যাস সংকটে থাকা শিল্প খাতের মধ্যে এ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহ বাড়ার এ তথ্য জানাল পেট্রোবাংলা।
এলএনজি আমদানি তদারকির দায়িত্বে থাকা পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, ইরান যুদ্ধের কারণে এলএনজি আমদানি ব্যাহত হওয়ায় দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমে গিয়েছিল। এখন এলএনজি কার্গো নিয়মিত আসতে শুরু করায় সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, রোববার দেশে মোট ২৩৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি ছিল ৭৫ কোটি ঘনফুট। সোমবার রাত ১০টায় আগের দিনের তুলনায় এলএনজি সরবরাহ ২৩ কোটি ঘনফুট বাড়িয়ে ৯৮ কোটি ঘনফুট করা হয়। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত ১৬২ কোটি ঘনফুট গ্যাসসহ ওই সময় মোট সরবরাহ দাঁড়ায় ২৬০ কোটি ঘনফুটে।
পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) এলএনজি আমদানি করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, সেপ্টেম্বরে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা থাকলেও এর মধ্যে ৯টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। এসব কার্গোর মধ্যে গানভরের দুটি এবং সৌদি আরবের আরামকোর দুটি রয়েছে। বাকি পাঁচটি কার্গো খোলাবাজার থেকে কেনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, আরামকোর দুটি এবং খোলাবাজার থেকে কেনা ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের একটি কার্গো ইতোমধ্যে দেশে এলএনজি সরবরাহ করেছে। এ ছাড়া কোরিয়ার একটি কোম্পানির কার্গো থেকেও দেশে এলএনজি এসেছে।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর গানভর, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটাল এনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো এবং ২৮ সেপ্টেম্বর গানভরের একটি করে কার্গো দেশে আসার কথা রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে এসব কার্গো দেশে এসে এলএনজি সরবরাহ করতে পারলে জ্বালানি সরবরাহ আরও বাড়বে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা। সংস্থাটি জানিয়েছে, অক্টোবরের জন্যও ১১টি এলএনজি কার্গো কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে ছয়টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। বাকি পাঁচটি কার্গো কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।