বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকায়নে আসছে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রকল্প,

দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই পরিকল্পনার আওতায় দেশের নির্বাচিত ১৫০টি সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করা হবে।

মাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকায়নে আসছে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রকল্প,
ছবি : সংগৃহীত

দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

এই পরিকল্পনার আওতায় দেশের নির্বাচিত ১৫০টি সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রকল্পটি মূলত চীন সরকারের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ ইতিপূর্বে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন শুরু করার লক্ষ্যে বর্তমানে প্রাথমিক দাপ্তরিক প্রক্রিয়াগুলো দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নতুন ৩০০টি স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান সমসংখ্যক ক্লাসরুমের আমূল সংস্কার করা হবে। এ ছাড়া একটি কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার, আধুনিক রেকর্ডিং রুম এবং মিটিং রুম নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতিটি নির্বাচিত বিদ্যালয়ে দুটি করে ‘ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল’ সরবরাহ করা হবে। এআই প্রযুক্তির কল্যাণে শিক্ষকদের পাঠদান স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হবে, যা ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও দেখার সুযোগ পাবে। এমনকি শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড ব্যবহার করে মুহূর্তেই ক্লাসের যাবতীয় নোট সংগ্রহ করতে পারবে।

মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, মাধ্যমিক শিক্ষাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীন সরকার ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অর্থবছর থেকেই এই বিশ্বমানের সুবিধা সংবলিত ক্লাসরুমগুলোর কার্যক্রম শুরু হবে। অন্যদিকে, মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন জানান, প্রকল্পের জন্য একটি অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টার স্থাপনের জায়গা নির্ধারণে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জায়গা চূড়ান্ত হলেই চীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলবে।

প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মাউশির গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাতুল ইসলাম জানান, বর্তমানে চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে এবং এরপরই কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাব (টিএপিপি) প্রণয়ন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন শুরু হবে।

উল্লেখ্য, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অনাপত্তি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে বগুড়ার বেতগাড়ী মীর শাহ আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং চাঁদপুরের ওবায়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পাইলট কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, মুখস্থ নির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে এই প্রযুক্তিগত সংযোজন শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী জ্ঞান আহরণে উৎসাহিত করবে এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।