শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মাঝারি কম্পনে কাঁপল চীনের সিচুয়ান প্রদেশ

এশিয়ার পরাশক্তি চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত সিচুয়ান প্রদেশে একটি মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।

মাঝারি কম্পনে কাঁপল চীনের সিচুয়ান প্রদেশ
ছবি : সংগৃহীত

এশিয়ার পরাশক্তি চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত সিচুয়ান প্রদেশে একটি মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। দেশটির স্থানীয় সময় অনুযায়ী রোববার রাতের শেষভাগে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগটি আঘাত হানে বলে নিশ্চিত করেছে জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র বা জিএফজেড।

আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই সংকটের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে রাতের অন্ধকারে এই ঘটনা ঘটলেও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রাণহানি কিংবা বড় ধরনের বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

জার্মান ভূবিজ্ঞানীদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ২৯। ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার ভূগর্ভে এই কম্পনের মূল উৎপত্তি ঘটেছিল। স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ভূপৃষ্ঠের একেবারে কাছাকাছি বা কম গভীরতায় উৎপত্তি হওয়ার কারণে কেন্দ্রস্থলের চারপাশের বেশ বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অত্যন্ত তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। হঠাৎ এই কম্পনের ফলে সিচুয়ানের প্রাদেশিক রাজধানী চেংডুসহ তার সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে চরম ভীতি ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে গভীর রাতেই বহু মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেন।

আঞ্চলিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্গত এলাকাগুলোতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ উদ্ধারকারী দল ইতিপূর্বেই মাঠে নেমেছে। তবে উপদ্রুত অঞ্চলটি মূলত প্রত্যন্ত ও দুর্গম পার্বত্য এলাকা হওয়ায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত ও চূড়ান্ত চিত্রটি হাতে পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভৌগোলিক ও টেকটোনিক প্লেটের অবস্থানের কারণে সিচুয়ান প্রদেশটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান তীব্র ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। এর আগে বিগত ২০০৮ সালে এই একই প্রদেশে ৮ মাত্রার একটি প্রলয়ংকরী ও স্মরণকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যার জেরে প্রায় ৯০ হাজার মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়। সোমবারের এই নতুন মৃদু কম্পনটি স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে পূর্বের সেই ভয়াবহ ও দুঃসহ স্মৃতি এবং আতঙ্ককে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।