মালদ্বীপের ভাভু অ্যাটলে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পাঁচজন ইতালীয় পর্যটক মারা গেছেন। রোমের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা বাহিনী এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির ইতিহাসে এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ ডাইভিং দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে ওই পর্যটকরা সমুদ্রের তলদেশে অভিযানে নামলেও দীর্ঘক্ষণ পার হওয়ার পরও তাঁরা ভেসে না ওঠায় জাহাজে থাকা কর্মীরা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
মালদ্বীপের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০-৬০ মিটার গভীরে একটি অন্ধকার গুহা পরিদর্শনের সময় তাঁরা বিপদে পড়েন। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অধিক গভীরতার কারণে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে সমুদ্রের তলদেশ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি চারজনও একই স্থানে আটকা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতদের মধ্যে জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের একজন নারী অধ্যাপক, তাঁর কন্যা এবং দুইজন গবেষক ছিলেন বলে জানা গেছে। এই মেধাবী সদস্যদের অকাল মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী মালে থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণের ওই অঞ্চলে দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়া পরিস্থিতি মোটেও অনুকূল ছিল না। এমনকি আগে থেকেই মৎস্যজীবী ও নৌযান চলাচলের ওপর বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। মালদ্বীপে সাধারণত ডাইভিংয়ের সময় এমন প্রাণহানির ঘটনা বিরল হলেও সম্প্রতি পর্যটকদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। এর আগে গত ডিসেম্বরে এক ব্রিটিশ দম্পতি এবং তারও কিছুকাল আগে একজন জাপানি পর্যটক সাগরের গভীরে প্রাণ হারিয়েছিলেন।